ঢাকা ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বগুড়া জিলা স্কুলে বৃক্ষনিধন চলছেই

গ্রাফিক্স: ক্যাম্পাস প্রতিদিন

ঢাকা: বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী জিলা স্কুলে গাছ কাটার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। নতুন ফটক নির্মাণের জন্য সম্প্রতি আরও ১৮টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এসব গাছ প্রকাশ্য নিলামে মাত্র ৩৫ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর জানিয়েছে, ফটকের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ভবিষ্যতে আরও কিছু গাছ কাটা হতে পারে।

এর আগে, নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের অজুহাতে ৫৫টি গাছ কেটে ফেলা হয় এবং ১ লাখ ১৫ হাজার টাকায় প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করা হয়।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিদ্যালয় চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, সাতমাথা–সংলগ্ন পুরোনো ফটকের স্থলে নতুন ও অত্যাধুনিক ফটক নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। ৯ ফেব্রুয়ারি থেকেই গাছ কাটার কাজ শুরু হয়।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মতে, জিলা স্কুল চত্বরে বহু পুরোনো গাছ ছিল, যেগুলো ষাট, সত্তর, আশি ও নব্বইয়ের দশকে রোপণ করা হয়েছিল। এ ছাড়া শতবর্ষী কিছু আম ও রেইনট্রিও ছিল।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান ফটক নির্মাণে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। ইতোমধ্যে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। ১৮টি গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ১৮ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায়, এবং ২৯ জানুয়ারি প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে গাছগুলো বিক্রি করা হয়।

অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মাহমুদা আকতার বলেন, “বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। সন্তানদের আনতে-নিতে অভিভাবকদের দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয়। আগে ফটকের পাশে ছায়ায় বসার জায়গা ছিল, এখন তা-ও নেই।”

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বগুড়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, “পরিকল্পনা ছাড়াই দুই দফায় ৭৩টি গাছ কাটা হয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণের কারণে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে।”

গত বছরের এপ্রিল মাসে ৫৫টি গাছ কাটার ঘটনায় প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বগুড়া জিলা স্কুল ও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ফেসবুক গ্রুপে প্রতিবাদ জানান।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ড্যানিয়েল তাহের জানান, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে পরিচালনা পর্ষদ গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেয়। বন বিভাগ ১৮টি গাছের মূল্য ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে। নিলামে সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা দর উঠলে তা অনুমোদিত হয়। আইনগতভাবে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।

সামাজিক বন বিভাগের উপবন সংরক্ষক মতলুবর রহমান বলেন, “ফটক নির্মাণের জন্য গাছ কাটার যৌক্তিকতা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে। মেহগনি ছাড়া অন্যান্য গাছ জ্বালানির কাঠ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় দাম কম নির্ধারণ করা হয়েছে।”

তবে বিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষায় বারবার বৃক্ষনিধন নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিবেশবিদদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে।

শেয়ার করুন
জনপ্রিয়

১৫ দিনের মধ্যেই জবি ‘ডি’ ইউনিটের ফল প্রকাশ

বগুড়া জিলা স্কুলে বৃক্ষনিধন চলছেই

আপডেট : ০৭:১৬:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ঢাকা: বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী জিলা স্কুলে গাছ কাটার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। নতুন ফটক নির্মাণের জন্য সম্প্রতি আরও ১৮টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এসব গাছ প্রকাশ্য নিলামে মাত্র ৩৫ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর জানিয়েছে, ফটকের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ভবিষ্যতে আরও কিছু গাছ কাটা হতে পারে।

এর আগে, নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের অজুহাতে ৫৫টি গাছ কেটে ফেলা হয় এবং ১ লাখ ১৫ হাজার টাকায় প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করা হয়।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিদ্যালয় চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, সাতমাথা–সংলগ্ন পুরোনো ফটকের স্থলে নতুন ও অত্যাধুনিক ফটক নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। ৯ ফেব্রুয়ারি থেকেই গাছ কাটার কাজ শুরু হয়।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মতে, জিলা স্কুল চত্বরে বহু পুরোনো গাছ ছিল, যেগুলো ষাট, সত্তর, আশি ও নব্বইয়ের দশকে রোপণ করা হয়েছিল। এ ছাড়া শতবর্ষী কিছু আম ও রেইনট্রিও ছিল।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান ফটক নির্মাণে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। ইতোমধ্যে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। ১৮টি গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ১৮ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায়, এবং ২৯ জানুয়ারি প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে গাছগুলো বিক্রি করা হয়।

অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মাহমুদা আকতার বলেন, “বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। সন্তানদের আনতে-নিতে অভিভাবকদের দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয়। আগে ফটকের পাশে ছায়ায় বসার জায়গা ছিল, এখন তা-ও নেই।”

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বগুড়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, “পরিকল্পনা ছাড়াই দুই দফায় ৭৩টি গাছ কাটা হয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণের কারণে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে।”

গত বছরের এপ্রিল মাসে ৫৫টি গাছ কাটার ঘটনায় প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বগুড়া জিলা স্কুল ও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ফেসবুক গ্রুপে প্রতিবাদ জানান।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ড্যানিয়েল তাহের জানান, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে পরিচালনা পর্ষদ গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেয়। বন বিভাগ ১৮টি গাছের মূল্য ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে। নিলামে সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা দর উঠলে তা অনুমোদিত হয়। আইনগতভাবে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।

সামাজিক বন বিভাগের উপবন সংরক্ষক মতলুবর রহমান বলেন, “ফটক নির্মাণের জন্য গাছ কাটার যৌক্তিকতা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে। মেহগনি ছাড়া অন্যান্য গাছ জ্বালানির কাঠ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় দাম কম নির্ধারণ করা হয়েছে।”

তবে বিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষায় বারবার বৃক্ষনিধন নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিবেশবিদদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে।

শেয়ার করুন